বরিশালে জমে উঠেছে পিঠার ভাসমান দোকান -সময় প্রবাহ নিউজ

 

আব্দুল্লাহ আল হাসিব, নিউজ ডেস্ক: পিঠা বাঙালির চিরাচরিত ঐতিহ্যের অন্যতম একটি বাহক। বাঙ্গালী জাতির পিঠা যেন এক সুতোয় গাঁথা। রসনাবিলাসীদের কাছে পিঠার আবেদন সবসময়ের জন্য। তবে শীত এলেই পিঠা-পুলির উম্মাদনা যেন বহু গুন বেড়ে যায়। প্রতিবারের মতো এবারও বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে বসেছে পিঠার আসর। নগরীর অলি-গলিতে জমে উঠেছে ভাপা ও চিতই পিঠা বিক্রির ধুম। সন্ধ্যার পর পরেই ভাপা ও চিতাই পিঠা বিক্রির দোকান গুলোতে পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সের নানা শ্রেনী পেশার মানুষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের নথুল্লাবাদ, মহাসিন মার্কেট, চকের পোল, বাজার রোড, শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ফটক, লঞ্চঘাট, সদর রোড, জেলখানার মোড়, রূপাতলী বাস র্টামিনাল, বিএম কলেজের সামনে, জিলা স্কুল, ত্রিশ গোডাউনসহ বরিশাল নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, অলিগলির মুখে বসছে এইসব পিঠার দোকান। ভাপা পিঠার পাশাপাশি বিক্রি করছে চিতই পিঠাও।বেশিরভাগ দোকানেই পিঠা বিক্রি করছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের পুরুষ, মহিলা ও ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা। চিতই পিঠার মূল আকর্ষন থাকে হরেক রকম ভর্তা। এর মধ্যে রয়েছে ধনিয়া পাতা, মরিচ, সরষে, শুঁটকি বাটা ইত্যাদি। এসব দোকানে প্রতি পিস পিঠা ৫ টাকা থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১০ টাকার পিঠা স্পেশাল পিঠা। আর শীতে যত রকমেরই পিঠা তৈরি হোক না কেনো ভাপা পিঠার সাথে অন্য কোন পিঠার তুলনাই হয় না। এই পিঠা বিক্রি করেই শীতের সময় অনেকে সংসার চালান। পিঠা বিক্রেতা নুরজাহান বেগম জানান, প্রতিবছর শীত এলেই আমরা পিঠা বিক্রি শুরু করি। শীতের প্রকোপ যত বেশী থাকে পিঠা বিক্রিও তত বেড়ে যায়। পিঠা বিক্রেতা আয়েশা নিশা জানান, প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এখানে বসি এবং এক থেকে দেড় হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করি। যে পিঠায় গুড় ও নারকেল দেয়া হয় সেসব পিঠার ক্রেতাও বেশী। শীতের হিমেল হাওয়ার তীব্রতা যতই বেশী বাড়ছে পিঠার বিক্রি ততই বেড়ে যায়। নগরীর মুসলিম গোরস্থান রোড ধোপাবাড়ি এলাকার খালিদ সাইফুল্লাহ মাসুদ প্রতিদিন শীত মৌসুমের পিঠা বিক্রি করে দিনে প্রায় ৩০০-৪০০ টাকা আয় করেন। তাছাড়া আসাদুজ্জামান নূর নামের একজন অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিএম কলেজ রোড এলাকায় ভ্রাম্যমান ভ্যানে করে ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। নগরীর লুৎফর রহমান এলাকা থেকে পিঠা খেতে আসা ফারজানা রুবী বলেন, প্রতিদিন ঘুরে ঘুরে প্রত্যেক এলাকার পিঠা খাওয়ার চেষ্টা করছি। আজকে গোডাউনে এলাম পিঠা খেতে। শীতের সন্ধ্যায় গরম গরম পিঠা খেলে মনও ভালো থাকে পেটও ভরে। কাশিপুর থেকে আসা ক্রেতা আসাদুল্লাহ আল ফারাবি বলেন, বন্ধুদের নিয়ে গোডাউনে এলাম পিঠার স্বাদ নিতে। সময় পেলেই এখানে আসি পিঠা খেতে। সচেতন মহল মনে করছেন, মৌসুমি পিঠা ব্যবসায়িরা বেকারত্ব দুরীকরণ ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি তারা লালন করছেন দেশীয় সংস্কৃতি। বাঙালির চিরাচরিত এ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সকলের সহযোগিতা করা দরকার।

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *