১৮০০ টাকায় শুরু; লাখপতিতে সফলতা কান্তা চক্রবর্ত্তির

 

 

 

 

 

 

 

 

মোঃ আল আমিন, সম্পাদক, সময় প্রবাহ নিউজঃ বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের মেয়ে কান্তা চক্রবর্ত্তী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ২০১৪ সালে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাবা। অনার্স পর্যন্ত পড়াশোনার খরচ টিউশনি করেই চালাতেন। পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিভাগের শিক্ষকরা তাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছেন।

এভাবেই তিনি সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছেন। মাস্টার্স শেষ করার পর মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের জেলা অফিসে কম্পিউটার ইন্সট্রাক্টর পদে চাকরি শুরু করেন। চাকরি ও সংসার সামলে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করেন। ২০১৫ সালে পড়াশোনার পাশাপাশি কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। তবে সেখানে সাফল্যের দেখা পাননি।

এরপর ২০১৬ সালে শুরু করেন হাতের তৈরি বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের ব্যবসা। সেখানেও তেমন সুবিধা করতে পারেননি কান্তা। ব্যবসা করার কৌশল ও নিয়ম-কানুন জানাসহ কারো সহযোগিতা না থাকায় সফল হতে পারেননি। তাই শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েন কান্তা। তবে হাল ছাড়েননি।

২০১৭ সালে ব্লক-বাটিকের প্রশিক্ষণ নিয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করেন কান্তা। পাশাপাশি নারীদের পোশাক রিসেলিং করেন। একই সাথে ধাপে ধাপে ২০ জন নারীকে ব্লক-বাটিকের প্রশিক্ষণ দেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এখন কাজ করছেন। কিন্তু তাতেও মানসিক তৃপ্তি পাচ্ছিলেন না।

২০১৯ সালে শুরু করেন হাতে তৈরি গহনার কাজ। মাত্র ১৮শ টাকা মূলধন নিয়ে তিনি গহনার কাজ শুরু করেন। তখন তাকে শেখানোর কেউ ছিল না। কোনো মাধ্যমও পাননি তিনি। তাই বাজার থেকে হাতে তৈরি গহনা কিনে সেগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। এমনকি খুলে খুলেও দেখেছেন।

তবে তার সম্বল ছিল ইউটিউব। অপরদিকে মুক্তা নামে একজন, যিনি নিজেও একজন ক্রাফটার। মুক্তার সাথে অনলাইনে পরিচয় হয় কান্তার। তিনি দূরে থেকেও কান্তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। তাতে বেশ ভালোই চলছে কান্তার হাতে তৈরি গহনার কাজ। বর্তমানে তার মূলধন ১৮ শত টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ (এক) লক্ষ টাকায়।

তবে খাবারের প্রতিও আগে থেকেই একটা নেশা ছিল কান্তার। ফেসবুক ভিত্তিক একটি ই-কমার্স গ্রুপ ‘উই’ এ যুক্ত হওয়ার পর তার মনের ইচ্ছাটি আবার জেগে ওঠে। তাই তিনি খাবার নিয়ে কাজ শুরু করেন ২০২০ সালের রমজান মাসে। সে সময় থেকে এখনো বেশ সাড়া পাচ্ছেন। এখনো কাজের পাশাপাশি বেশকিছু নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার জন্য হাতেকলমে গহনা তৈরি ও ব্লক-বাটিকের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

কান্তা চক্রবর্ত্তি সময় প্রবাহ নিউজকে তাঁর এই উদ্যোগের বিষয়ে বলেন, “আমি চাই সবাই স্বাবলম্বী হোক।” সুযোগের অভাবে আমি নিজে থেকে বেশি কিছু করতে পারিনি। তাই আমি যতটা পারি অন্যকে সাহায্য করার চেষ্টা করি। আমরা ভবিষ্যতে এটি চালিয়ে যাব। প্রতিভা সবার মধ্যে থাকে; শুধু একটু সুযোগ দরকার। তবেই প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। ‘

কান্তা মনে করেন যে প্রতিভা বিকাশের জন্য ই-কমার্স একটি সেরা প্ল্যাটফর্ম। তাই তিনি ‘উই’ এবং ডিজিটাল স্কিল ফর বাংলাদেশ (ডিএসবি) গ্রপ থেকেও ই-কমার্স সম্পর্কে শিখছেন। যা তার উদ্যোক্তা এবং ব্যক্তিগত জীবনে আরও অনেক সহযোগী ভূমিকা পালন করছে।

Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *